যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই পরাশক্তির নেতার এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনীতি নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া ক্রমশ চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বেইজিং মস্কোর অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য পুরোপুরি সমান নয়; কারণ রাশিয়া যতটা চীনের ওপর নির্ভরশীল, চীন ততটা নয়।
রাশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক আলেকজান্ডার গাবুয়েভ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের প্রভাব রাশিয়ার ওপর আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনেক সিদ্ধান্তেই এখন বেইজিংয়ের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে সরাসরি চীনে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে চীন বিকল্প ও স্থিতিশীল জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।


